Dhaka , বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নড়াইলে স্ত্রীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা: স্বামী আটক প্রধানমন্ত্রী ১৬ মে চাঁদপুর, ২৫ মে ফেনী যাবেন  দেশে মে মাসের প্রথম ৪ দিনেই রেমিট্যান্স এসেছে ৪৫.৬ কোটি ডলার মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় লিমন-বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিচ্ছে জনগণের রায়ে নয় বরং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছে সুন্দরবনে পর্যটকদের ওপর হামলাও ডাকাতির চেষ্টা, আটক ২ স্থানীয় সরকার নির্বাচন বছরের শেষ দিকে: তথ্য উপদেষ্টা চুক্তি নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর “ডিসিদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীকে জনমুখী ও শক্তিশালী করতে” শ্যামনগরে অপহৃত পশু চিকিৎসক উদ্ধার: আটক ৩, মূলহোতা পলাতক চেয়ারম্যানকে ঘিরে নানা প্রশ্ন

রাডার ফাঁকি দিয়ে ইরানি যুদ্ধবিমান মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত

একটি ইরানি যুদ্ধবিমান মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর উন্নত বহুস্তর প্রতিরক্ষা ভেদ করে কুয়েতে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় এবং নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরে আসে।

এই প্রথম কোনো যুদ্ধবিমান সরাসরি একটি বড় মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম হলো।

ঘটনাটি মার্চের শুরুতে ঘটে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের একটি ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে যুদ্ধবিমানটি অত্যন্ত নিম্ন উচ্চতায় পারস্য উপসাগর অতিক্রম করে কুয়েতের দিকে অগ্রসর হয়। লক্ষ্য ছিল উত্তর-পশ্চিম কুয়েতে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটি, ক্যাম্প বুহরিং। সেখানে পৌঁছে বিমানটি প্রচলিত বোমা নিক্ষেপ করে এবং সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি ছিল সুপরিকল্পিত এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার নিদর্শন। যুদ্ধবিমানটি এত নিচু দিয়ে উড়ে যে ভূমিভিত্তিক রাডার ব্যবস্থা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পৃথিবীর বক্রতা এবং ভূমির প্রতিবন্ধকতার কারণে রাডারের সীমাবদ্ধতা এখানে বড় ভূমিকা রাখে।

এই অভিযানের সময় ইরান একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও চালাচ্ছিল, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত ও বিভ্রান্ত করে তোলে। ফলে নিম্ন উচ্চতায় আসা যুদ্ধবিমানটি কার্যত নজর এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

ক্যাম্প বুহরিং মার্কিন বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি, যা মূলত মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েন, প্রশিক্ষণ এবং সরঞ্জাম সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এই হামলা সফল হওয়া মার্কিন সামরিক পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

যে যুদ্ধবিমানটি এই হামলায় ব্যবহৃত হয়, তা মূলত পুরোনো নকশার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হলেও ইরান নিজস্ব প্রযুক্তিতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছে। আধুনিক ককপিট, উন্নত রাডার, নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং দেশীয়ভাবে উৎপাদিত যন্ত্রাংশ যুক্ত করে এটিকে কার্যকর যুদ্ধবিমানে রূপ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা শুধু সামরিক নয়, মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রমাণ করেছে যে উন্নত প্রযুক্তি ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও দুর্বলতা থেকে যায়। একই সঙ্গে এটি ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও আত্মনির্ভরতার একটি বড় বার্তা বহন করে।

তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৫:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
১২ Time View

রাডার ফাঁকি দিয়ে ইরানি যুদ্ধবিমান মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত

Update Time : ০৫:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

একটি ইরানি যুদ্ধবিমান মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর উন্নত বহুস্তর প্রতিরক্ষা ভেদ করে কুয়েতে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় এবং নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরে আসে।

এই প্রথম কোনো যুদ্ধবিমান সরাসরি একটি বড় মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম হলো।

ঘটনাটি মার্চের শুরুতে ঘটে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের একটি ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে যুদ্ধবিমানটি অত্যন্ত নিম্ন উচ্চতায় পারস্য উপসাগর অতিক্রম করে কুয়েতের দিকে অগ্রসর হয়। লক্ষ্য ছিল উত্তর-পশ্চিম কুয়েতে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটি, ক্যাম্প বুহরিং। সেখানে পৌঁছে বিমানটি প্রচলিত বোমা নিক্ষেপ করে এবং সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি ছিল সুপরিকল্পিত এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার নিদর্শন। যুদ্ধবিমানটি এত নিচু দিয়ে উড়ে যে ভূমিভিত্তিক রাডার ব্যবস্থা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পৃথিবীর বক্রতা এবং ভূমির প্রতিবন্ধকতার কারণে রাডারের সীমাবদ্ধতা এখানে বড় ভূমিকা রাখে।

এই অভিযানের সময় ইরান একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও চালাচ্ছিল, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত ও বিভ্রান্ত করে তোলে। ফলে নিম্ন উচ্চতায় আসা যুদ্ধবিমানটি কার্যত নজর এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

ক্যাম্প বুহরিং মার্কিন বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি, যা মূলত মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েন, প্রশিক্ষণ এবং সরঞ্জাম সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এই হামলা সফল হওয়া মার্কিন সামরিক পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

যে যুদ্ধবিমানটি এই হামলায় ব্যবহৃত হয়, তা মূলত পুরোনো নকশার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হলেও ইরান নিজস্ব প্রযুক্তিতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছে। আধুনিক ককপিট, উন্নত রাডার, নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং দেশীয়ভাবে উৎপাদিত যন্ত্রাংশ যুক্ত করে এটিকে কার্যকর যুদ্ধবিমানে রূপ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা শুধু সামরিক নয়, মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রমাণ করেছে যে উন্নত প্রযুক্তি ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও দুর্বলতা থেকে যায়। একই সঙ্গে এটি ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও আত্মনির্ভরতার একটি বড় বার্তা বহন করে।

তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি