Dhaka , বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দেশে মে মাসের প্রথম ৪ দিনেই রেমিট্যান্স এসেছে ৪৫.৬ কোটি ডলার মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় লিমন-বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিচ্ছে জনগণের রায়ে নয় বরং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছে সুন্দরবনে পর্যটকদের ওপর হামলাও ডাকাতির চেষ্টা, আটক ২ স্থানীয় সরকার নির্বাচন বছরের শেষ দিকে: তথ্য উপদেষ্টা চুক্তি নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর “ডিসিদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীকে জনমুখী ও শক্তিশালী করতে” শ্যামনগরে অপহৃত পশু চিকিৎসক উদ্ধার: আটক ৩, মূলহোতা পলাতক চেয়ারম্যানকে ঘিরে নানা প্রশ্ন পদ্ম ফুটেছে পশ্চিমবঙ্গে, জনতার শক্তি জয়ী হয়েছে: নরেন্দ্র মোদী একদিনে ১৭ শিশুর মৃত্যু

একমন ধান বিক্রি করে হচ্ছে না একজন শ্রমিকের মুজুরি  

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি:

O

চলতি বোরো মৌসুমে একমন ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের মুজুরি  হচ্ছে না রাজশাহীর তানোরে। একারনে বোরো চাষীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। বহিরাগত শ্রমিক না আসা এবং মাটিতে নুয়ে পড়ার কারনে শ্রমিকদের বেড়েছে কদর। বোরো চাষ করে লাভ তো দূরে থাক বিঘায় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষীদের। বর্তমানে একমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৮৩০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকা দরে।

জালানি সংকটের কারনে মোকাম থেকে গাড়ী না আসায় ধানের দাম কমতি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে হাটে বা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে কৃষকদের ধান কিনে সরকারি ভাবে সংগ্রহের দাবি তুলেছেন চাষীরা। তাহলে হয়তো কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারে খাদ্য যোদ্ধারা। কারন চলতি মৌসুমে আলুতে ধরাসয়ী হয়ে হাজারো চাষীরা পথে বসে গেছেন। আবার ধানে লোকসানের কারনে ধান চাষীরাও পথে বসার উপক্রম শুরু হয়েছে। অথচ ধান আলু বাদে প্রতিটি পণ্যের বাড়তি দাম। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি কয়েকদিন পরে ধানের দাম বাড়তে পারে।

জানা গেছে, এউপজেলায় বিলকুমারী বিলে আগাম বোরো ধানে চাষ হয়ে থাকে। আর আলু উত্তোলনের পর মার্চ মাসের শুরু থেকে আরেক দফা বোরো ধানের চাষ হয়। উপজেলার চান্দুড়িয়া ইউপির চান্দুড়িয়া ব্রীজ ঘাট থেকে তানোর পৌরসভা হয়ে কামারগাঁ ইউপির মালশিরা চৌবাড়িয়া ব্রীজ ঘাট পর্যন্ত বিলকুমারী বিলের জমিতে আগাম বোরো চাষ হয়ে থাকে। বিলের জমির ধান ইতিপূর্বেই কাটা শুরু হয়েছে। বেশির ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে। বিঘায় নিম্মে ২৫ মন থেকে ঊর্ধ্বে ২৮/৩০ মন করে ফলন হচ্ছে।
তবে আধাপাকা ধানের কারনে বাড়তি ফলন বলে মনে করছেন চাষীরা।তোফা নামের বিলপাড়ের কৃষক জানান, বিলের সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। পুরো জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। ধান কেটে বাড়ির আঙ্গিনায় পালা দেয়া আছে। প্রতিদিন মাড়ায় করা হচ্ছে, আর বিক্রি করছি। তবে ধানের বাজার একেবারে নিম্ম। ৮৫০ টাকা দরে ধান বিক্রি করা হয়েছে। বিঘায় ছয় মন করে ধান দিতে হয়েছে শ্রমিকদের। বৈরি আবহাওয়ার আগে ধানগুলো কাটা হয়েছিল। এখন কাটলে বাড়তি খরচ লাগত। বিগত বছরে একবিঘা জমির ধান মাড়ায় করতে ১৫কেজি ধান দিতে হত। এবারে ২০ কেজি করে দিতে হচ্ছে।
ফারক নামের আরেক চাষী জানান, বিলের নিচু ২৪ কাঠা জমিতে ধান চাষ করা হয়েছিল। আধাপাকা অবস্থায় কাটা হয়েছে। সব ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছিল। ২৪ কাটা জমির ধান কাটতে ৮ জন শ্রমিক লেগেছে। সকাল থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ধান কাটে। এজন জনপ্রতি ৬০০ টাকা করে দিতে হয়েছে। একবেলার জন্য শ্রমিক প্রতি ৬০০ টাকা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১২০০ টাকা করে জনপ্রতি মুজুরি দিতে হচ্ছে। বাজারে একমন ধানের দাম ৮৫০ টাকা। একবেলা শ্রমিকের মূল্য ৬০০ টাকা, সারা দিনের মূল্য ১২০০ টাকা।
কৃষকরা জানান, এবারে ধান কাটা শ্রমিকরা বাহিরা থেকে না আসার কারনে ধান কাটতে দেরি হচ্ছে। বহিরাগত শ্রমিকরা আসলে এতদিনে ধান কাটা শেষ হয়ে যেত। বাহির থেকে না আসার কারনে স্থানীয় শ্রমিকদের কদর বেড়েছে। তারা চুক্তিতে ধান কাটেনা। এবার তো আরো কাটছেনা। কারন দাম না থাকার কারনে মুজুরি ভিত্তিতে ধান কাটছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রকার ভেদে ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা মুজুরি নিচ্ছে। আবার মাটিতে পাকা আধাপাকা ধান পড়ে যাওয়ার কারনে বিঘায় ২/৩ জন শ্রমিক বেশি লাগছে। এজন্য ধান কাটা খরচ বেড়েছে, পরিবহন খরচও বাড়তি। কৃষিতে মহা বিপর্যয় শুরু হয়েছে।
সবকিছুর দাম বাড়তি হলেও ধানের দাম কমতি। আবার চালের দাম বাড়তি। এভাবে চলতে থাকলে প্রান্তিক চাষীরা পথে বসে চাষাবাদ ছেড়ে দিতে পারে। কৃষকদের দিকে সরকারকে আলাদা ভাবে নজর দিতে হবে। সরকারি ভাবে বোরো ধান ৩৬ টাকা কেজি কিনবে। কিন্তু বোরো ধান একেবারে ঝরঝরে শুকনো পাওয়া কষ্টকর। আমরা সরকারি ভাবে ধান দিতে পারবনা। কারন আমরা ধান নিয়ে গেলে হয়রানির শেষ থাকেনা। এজন্য যে সব হাটে ধান বিক্রি হয় সে সব হাটে সরাসরি ধান কিনলে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যাবে। আবার ব্যবসায়ীদের কে একটা দাম নির্ধারণ করে দিয়ে কৃষকের কাছ থেকে কিনে সরকারি ভাবেও সংগ্রহ করলেও আসা অনরুপ দাম পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সরকার তো এসব করবে না। আমরা সারা বছর ফসল উৎপাদন করছি বলেই তো দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। সুতরাং পা ফাটা কৃষক ও  খাদ্য যোদ্ধাদের রক্ষা করতে হবে।
শাকির জানান, তিন বিঘা জমি লীজে ধান চাষ করেছিলাম। ধান কাটা মাড়ায় শেষ হয়েছে। বিঘায় ফলন ২৬ মন করে। রোপন থেকে ধান কাটার আগ পর্যন্ত বিঘায় খরচ ২৫ হাজার টাকা। বিঘায় কাটতে ৬ জন শ্রমিক। জনপ্রতি সারা দিন ১২০০ টাকা মুজুরি। জমি থেকে থেকে বাড়িতে বহনে বিঘায় ২০০০ হাজার টাকা। মাড়ায় বিঘায় ৪২৫ টাকা। হিসেব করে দেখা যায় বিঘায়  ৫ হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। সেই হিসেবে বিঘায় ২৮ মন ধান হলে ৮৫০ দরে দাম লাগে ২৩ হাজার ৮০০ টাকা। একবিঘা জমির শুকনো খড় হলে বাজার অনুযায়ী ৩ হাজার টাকা লাগবে। একবিঘা জমির ধান ও খড় বিক্রি করে ২৬ হাজার ৮০০ টাকা আসে। বিঘায় লীজের জমিতে খরচ ৩১ হাজার টাকা। বিঘায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এউপজেলায় বিলের জমিতে আগাম বোরো চাষ হয়। চান্দুড়িয়া থেকে মালশিরা চৌবাড়িয়া ব্রীজ ঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এপর্যন্ত ৫৫০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। যা শতকরা ১৫ থেকে ১৮% ধান কাটা হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো বিলের জমির ধান কাটা হয়ে যাবে।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৬:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
৫ Time View

একমন ধান বিক্রি করে হচ্ছে না একজন শ্রমিকের মুজুরি  

Update Time : ০৬:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
চলতি বোরো মৌসুমে একমন ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের মুজুরি  হচ্ছে না রাজশাহীর তানোরে। একারনে বোরো চাষীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। বহিরাগত শ্রমিক না আসা এবং মাটিতে নুয়ে পড়ার কারনে শ্রমিকদের বেড়েছে কদর। বোরো চাষ করে লাভ তো দূরে থাক বিঘায় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষীদের। বর্তমানে একমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৮৩০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকা দরে।

জালানি সংকটের কারনে মোকাম থেকে গাড়ী না আসায় ধানের দাম কমতি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে হাটে বা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে কৃষকদের ধান কিনে সরকারি ভাবে সংগ্রহের দাবি তুলেছেন চাষীরা। তাহলে হয়তো কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারে খাদ্য যোদ্ধারা। কারন চলতি মৌসুমে আলুতে ধরাসয়ী হয়ে হাজারো চাষীরা পথে বসে গেছেন। আবার ধানে লোকসানের কারনে ধান চাষীরাও পথে বসার উপক্রম শুরু হয়েছে। অথচ ধান আলু বাদে প্রতিটি পণ্যের বাড়তি দাম। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি কয়েকদিন পরে ধানের দাম বাড়তে পারে।

জানা গেছে, এউপজেলায় বিলকুমারী বিলে আগাম বোরো ধানে চাষ হয়ে থাকে। আর আলু উত্তোলনের পর মার্চ মাসের শুরু থেকে আরেক দফা বোরো ধানের চাষ হয়। উপজেলার চান্দুড়িয়া ইউপির চান্দুড়িয়া ব্রীজ ঘাট থেকে তানোর পৌরসভা হয়ে কামারগাঁ ইউপির মালশিরা চৌবাড়িয়া ব্রীজ ঘাট পর্যন্ত বিলকুমারী বিলের জমিতে আগাম বোরো চাষ হয়ে থাকে। বিলের জমির ধান ইতিপূর্বেই কাটা শুরু হয়েছে। বেশির ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে। বিঘায় নিম্মে ২৫ মন থেকে ঊর্ধ্বে ২৮/৩০ মন করে ফলন হচ্ছে।
তবে আধাপাকা ধানের কারনে বাড়তি ফলন বলে মনে করছেন চাষীরা।তোফা নামের বিলপাড়ের কৃষক জানান, বিলের সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। পুরো জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। ধান কেটে বাড়ির আঙ্গিনায় পালা দেয়া আছে। প্রতিদিন মাড়ায় করা হচ্ছে, আর বিক্রি করছি। তবে ধানের বাজার একেবারে নিম্ম। ৮৫০ টাকা দরে ধান বিক্রি করা হয়েছে। বিঘায় ছয় মন করে ধান দিতে হয়েছে শ্রমিকদের। বৈরি আবহাওয়ার আগে ধানগুলো কাটা হয়েছিল। এখন কাটলে বাড়তি খরচ লাগত। বিগত বছরে একবিঘা জমির ধান মাড়ায় করতে ১৫কেজি ধান দিতে হত। এবারে ২০ কেজি করে দিতে হচ্ছে।
ফারক নামের আরেক চাষী জানান, বিলের নিচু ২৪ কাঠা জমিতে ধান চাষ করা হয়েছিল। আধাপাকা অবস্থায় কাটা হয়েছে। সব ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছিল। ২৪ কাটা জমির ধান কাটতে ৮ জন শ্রমিক লেগেছে। সকাল থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ধান কাটে। এজন জনপ্রতি ৬০০ টাকা করে দিতে হয়েছে। একবেলার জন্য শ্রমিক প্রতি ৬০০ টাকা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১২০০ টাকা করে জনপ্রতি মুজুরি দিতে হচ্ছে। বাজারে একমন ধানের দাম ৮৫০ টাকা। একবেলা শ্রমিকের মূল্য ৬০০ টাকা, সারা দিনের মূল্য ১২০০ টাকা।
কৃষকরা জানান, এবারে ধান কাটা শ্রমিকরা বাহিরা থেকে না আসার কারনে ধান কাটতে দেরি হচ্ছে। বহিরাগত শ্রমিকরা আসলে এতদিনে ধান কাটা শেষ হয়ে যেত। বাহির থেকে না আসার কারনে স্থানীয় শ্রমিকদের কদর বেড়েছে। তারা চুক্তিতে ধান কাটেনা। এবার তো আরো কাটছেনা। কারন দাম না থাকার কারনে মুজুরি ভিত্তিতে ধান কাটছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রকার ভেদে ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা মুজুরি নিচ্ছে। আবার মাটিতে পাকা আধাপাকা ধান পড়ে যাওয়ার কারনে বিঘায় ২/৩ জন শ্রমিক বেশি লাগছে। এজন্য ধান কাটা খরচ বেড়েছে, পরিবহন খরচও বাড়তি। কৃষিতে মহা বিপর্যয় শুরু হয়েছে।
সবকিছুর দাম বাড়তি হলেও ধানের দাম কমতি। আবার চালের দাম বাড়তি। এভাবে চলতে থাকলে প্রান্তিক চাষীরা পথে বসে চাষাবাদ ছেড়ে দিতে পারে। কৃষকদের দিকে সরকারকে আলাদা ভাবে নজর দিতে হবে। সরকারি ভাবে বোরো ধান ৩৬ টাকা কেজি কিনবে। কিন্তু বোরো ধান একেবারে ঝরঝরে শুকনো পাওয়া কষ্টকর। আমরা সরকারি ভাবে ধান দিতে পারবনা। কারন আমরা ধান নিয়ে গেলে হয়রানির শেষ থাকেনা। এজন্য যে সব হাটে ধান বিক্রি হয় সে সব হাটে সরাসরি ধান কিনলে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যাবে। আবার ব্যবসায়ীদের কে একটা দাম নির্ধারণ করে দিয়ে কৃষকের কাছ থেকে কিনে সরকারি ভাবেও সংগ্রহ করলেও আসা অনরুপ দাম পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সরকার তো এসব করবে না। আমরা সারা বছর ফসল উৎপাদন করছি বলেই তো দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। সুতরাং পা ফাটা কৃষক ও  খাদ্য যোদ্ধাদের রক্ষা করতে হবে।
শাকির জানান, তিন বিঘা জমি লীজে ধান চাষ করেছিলাম। ধান কাটা মাড়ায় শেষ হয়েছে। বিঘায় ফলন ২৬ মন করে। রোপন থেকে ধান কাটার আগ পর্যন্ত বিঘায় খরচ ২৫ হাজার টাকা। বিঘায় কাটতে ৬ জন শ্রমিক। জনপ্রতি সারা দিন ১২০০ টাকা মুজুরি। জমি থেকে থেকে বাড়িতে বহনে বিঘায় ২০০০ হাজার টাকা। মাড়ায় বিঘায় ৪২৫ টাকা। হিসেব করে দেখা যায় বিঘায়  ৫ হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। সেই হিসেবে বিঘায় ২৮ মন ধান হলে ৮৫০ দরে দাম লাগে ২৩ হাজার ৮০০ টাকা। একবিঘা জমির শুকনো খড় হলে বাজার অনুযায়ী ৩ হাজার টাকা লাগবে। একবিঘা জমির ধান ও খড় বিক্রি করে ২৬ হাজার ৮০০ টাকা আসে। বিঘায় লীজের জমিতে খরচ ৩১ হাজার টাকা। বিঘায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এউপজেলায় বিলের জমিতে আগাম বোরো চাষ হয়। চান্দুড়িয়া থেকে মালশিরা চৌবাড়িয়া ব্রীজ ঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এপর্যন্ত ৫৫০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। যা শতকরা ১৫ থেকে ১৮% ধান কাটা হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো বিলের জমির ধান কাটা হয়ে যাবে।