Dhaka , বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নড়াইলে স্ত্রীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা: স্বামী আটক প্রধানমন্ত্রী ১৬ মে চাঁদপুর, ২৫ মে ফেনী যাবেন  দেশে মে মাসের প্রথম ৪ দিনেই রেমিট্যান্স এসেছে ৪৫.৬ কোটি ডলার মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় লিমন-বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিচ্ছে জনগণের রায়ে নয় বরং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছে সুন্দরবনে পর্যটকদের ওপর হামলাও ডাকাতির চেষ্টা, আটক ২ স্থানীয় সরকার নির্বাচন বছরের শেষ দিকে: তথ্য উপদেষ্টা চুক্তি নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর “ডিসিদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীকে জনমুখী ও শক্তিশালী করতে” শ্যামনগরে অপহৃত পশু চিকিৎসক উদ্ধার: আটক ৩, মূলহোতা পলাতক চেয়ারম্যানকে ঘিরে নানা প্রশ্ন

পালাবদলের ইঙ্গিত, এগিয়ে বিজেপি

আন্তর্জাতিক ডেক্স:

সোমবার (৪ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোট গণনা শুরু হয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের। এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের প্রবণতা অনুযায়ী, বিজেপি এগিয়ে ১৬২ আসনে, তৃণমূল ১১৫ আসনে।

২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য যেকোনো দলের প্রয়োজন হবে ১৪৮ আসনে জয়।

গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়। অনিয়মের অভিযোগে একটি আসনের ভোট বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। তাই আজ ২৯৩ আসনে ভোট গণনা চলছে।

স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টা) কলকাতাসহ ২৩ জেলায় স্থাপিত ৭৭টি কেন্দ্রে একযোগে এই ভোট গণনা শুরু হয়।

এদিকে ২০১৬ থেকে রাজনৈতিক উত্থানের সূচকে পা রাখা বিজেপিও ২০২১ সালে তৃণমূলের চোখে চোখ রেখে লড়াই করে নিজেদের ভোটের হার বাড়ায়। আর ক্রমশ দুর্বল হতে শুরু করে বাম-কংগ্রেস শিবির।

বুথ ফেরত সমীক্ষার ইঙ্গিত যাই হোক না কেন, গোটা দেশের নজর সোমবারের ইভিএমের দিকেই। কারণ এদিনই জানা যাবে, রাজ্যটিতে মমতার মা-মাটি-মানুষ সরকারের প্রত্যাবর্তন, না পরিবর্তনের ডাক দিয়ে নরেন্দ্র মোদির বিজেপির উত্থান হবে। যেকোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ মূলত তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দল শসন ক্ষমতায় এসেছে। দলগুলো হলো- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস: ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত (মাঝখানে স্বল্প সময়ের জন্য যুক্তফ্রন্ট সরকার ছিল)। সিপিআইএমের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট: ১৯৭৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ৩৪ বছর এই জোট ক্ষমতায় ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২০১১ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত টানা তিনবার পশ্চিবঙ্গের ক্ষমতায় তৃণমূল কংগ্রেস।

এই হিসাব অনুযায়ী বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে কখনও সরকার গঠন করতে পারেনি। দীর্ঘদিন ধরে এ রাজ্যে বিজেপি একটি প্রান্তিক শক্তি। বিধানসভায় তাদের আসন সংখ্যা ছিল নগণ্য। তবে ২০১৬ সালের নির্বাচনে বিজেপি প্রথমবার উল্লেখযোগ্যভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয় এবং মাত্র ৩টি আসনে জয়লাভ করে।

এরপর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি চমকপ্রদ ফল করে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয়লাভ করে। এরপর থেকেই তারা রাজ্যে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে।

সর্বশেষ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ‘এবার ২০০ পার’ স্লোগান দিয়ে জোরকদমে লড়াইয়ে নামলেও ৭৭টি আসনে থমকে যায়। তবে ৩টি থেকে ৭৭টি আসনে পৌঁছানো ছিল তাদের জন্য এক বিশাল লাফ। তারা প্রথমবারের মতো রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
৯ Time View

পালাবদলের ইঙ্গিত, এগিয়ে বিজেপি

Update Time : ০২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

সোমবার (৪ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোট গণনা শুরু হয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের। এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের প্রবণতা অনুযায়ী, বিজেপি এগিয়ে ১৬২ আসনে, তৃণমূল ১১৫ আসনে।

২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য যেকোনো দলের প্রয়োজন হবে ১৪৮ আসনে জয়।

গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়। অনিয়মের অভিযোগে একটি আসনের ভোট বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। তাই আজ ২৯৩ আসনে ভোট গণনা চলছে।

স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টা) কলকাতাসহ ২৩ জেলায় স্থাপিত ৭৭টি কেন্দ্রে একযোগে এই ভোট গণনা শুরু হয়।

এদিকে ২০১৬ থেকে রাজনৈতিক উত্থানের সূচকে পা রাখা বিজেপিও ২০২১ সালে তৃণমূলের চোখে চোখ রেখে লড়াই করে নিজেদের ভোটের হার বাড়ায়। আর ক্রমশ দুর্বল হতে শুরু করে বাম-কংগ্রেস শিবির।

বুথ ফেরত সমীক্ষার ইঙ্গিত যাই হোক না কেন, গোটা দেশের নজর সোমবারের ইভিএমের দিকেই। কারণ এদিনই জানা যাবে, রাজ্যটিতে মমতার মা-মাটি-মানুষ সরকারের প্রত্যাবর্তন, না পরিবর্তনের ডাক দিয়ে নরেন্দ্র মোদির বিজেপির উত্থান হবে। যেকোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ মূলত তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দল শসন ক্ষমতায় এসেছে। দলগুলো হলো- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস: ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত (মাঝখানে স্বল্প সময়ের জন্য যুক্তফ্রন্ট সরকার ছিল)। সিপিআইএমের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট: ১৯৭৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ৩৪ বছর এই জোট ক্ষমতায় ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২০১১ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত টানা তিনবার পশ্চিবঙ্গের ক্ষমতায় তৃণমূল কংগ্রেস।

এই হিসাব অনুযায়ী বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে কখনও সরকার গঠন করতে পারেনি। দীর্ঘদিন ধরে এ রাজ্যে বিজেপি একটি প্রান্তিক শক্তি। বিধানসভায় তাদের আসন সংখ্যা ছিল নগণ্য। তবে ২০১৬ সালের নির্বাচনে বিজেপি প্রথমবার উল্লেখযোগ্যভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয় এবং মাত্র ৩টি আসনে জয়লাভ করে।

এরপর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি চমকপ্রদ ফল করে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয়লাভ করে। এরপর থেকেই তারা রাজ্যে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে।

সর্বশেষ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ‘এবার ২০০ পার’ স্লোগান দিয়ে জোরকদমে লড়াইয়ে নামলেও ৭৭টি আসনে থমকে যায়। তবে ৩টি থেকে ৭৭টি আসনে পৌঁছানো ছিল তাদের জন্য এক বিশাল লাফ। তারা প্রথমবারের মতো রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।