দিঘলিয়ায় সাংবাদিক শামীম আহমেদের ওপর নৃশংস হামলা, ৩ দিনেও নেই গ্রেপ্তার
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক এস.এম. শামীম আহমেদের ওপর সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। একইসঙ্গে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ মে শুক্রবার দুপুরের দিকে দৈনিক অনির্বাণ পত্রিকার দিঘলিয়া প্রতিনিধি ও “খুলনার খবর”–এর বার্তা সম্পাদক শামীম আহমেদ তার সহকর্মী রানা মোড়লকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে দিঘলিয়া উপজেলার চৌরাস্তায় পৌঁছালে মোটরসাইকেল থামিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন স্থানীয় যুবক উজ্জ্বল মোড়ল। এ সময় রানা মোড়লকে উদ্দেশ্য করে তিনি টিশার্ট ধরে টান দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে উজ্জ্বল মোড়ল ও রানা মোড়লের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উজ্জ্বল মোড়ল সাংবাদিক শামীম আহমেদের ওপর এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি পেছন দিক থেকে শামীমকে চেপে ধরে রাখে।
পরবর্তীতে অভিযোগ করা হয়, উজ্জ্বল মোড়ল তার হাতে থাকা পাথর বা লোহার মতো কোনো বস্তু দিয়ে শামীম আহমেদের মাথা ও মুখমণ্ডলে আঘাত করেন। এতে তার মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত তাকে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
এ ঘটনার পর রানা মোড়লের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত উজ্জ্বল মোড়ল ও রানা মোড়ল সম্পর্কে আত্মীয় (মামাতো-ফুফাতো ভাই) হওয়ার অভিযোগ রয়েছে, এবং ঘটনার সময় তিনি নীরব ভূমিকা পালন করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর দিঘলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত প্রধান অভিযুক্ত উজ্জ্বল মোড়ল ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় খুলনা জেলার সাংবাদিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি হুমকি। দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, শিগগিরই যদি হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা না হয়, তাহলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।






















