Dhaka , বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নড়াইলে স্ত্রীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা: স্বামী আটক প্রধানমন্ত্রী ১৬ মে চাঁদপুর, ২৫ মে ফেনী যাবেন  দেশে মে মাসের প্রথম ৪ দিনেই রেমিট্যান্স এসেছে ৪৫.৬ কোটি ডলার মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় লিমন-বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিচ্ছে জনগণের রায়ে নয় বরং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছে সুন্দরবনে পর্যটকদের ওপর হামলাও ডাকাতির চেষ্টা, আটক ২ স্থানীয় সরকার নির্বাচন বছরের শেষ দিকে: তথ্য উপদেষ্টা চুক্তি নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর “ডিসিদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীকে জনমুখী ও শক্তিশালী করতে” শ্যামনগরে অপহৃত পশু চিকিৎসক উদ্ধার: আটক ৩, মূলহোতা পলাতক চেয়ারম্যানকে ঘিরে নানা প্রশ্ন

রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে: ফয়জুল করীম

নিজস্ব প্রতিনিধি :

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই) বলেছেন, শ্রমিকরা সকল আমলেই বঞ্চিত ও নির্যাতিত। রাষ্ট্রের উচিৎ ম্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করা। তাই সকল শ্রেণির মতো শ্রমিকদেরও রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্ড প্রদান করতে হবে। সেই কার্ডের অধিনে তাদের চিকিৎসা, খাদ্য ও আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

আজ ১ লা মে শ্রমিক দিবসে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন কর্তৃক আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি ফয়জুল করীম উপর্যুক্ত মন্তব্য করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে ইসলামের স্বার্থে আমরা সমঝোতা ত্যাগ করেছিলাম। তিনি অভিযোগ করেন, অন্যরা যখন ইসলামকে উপেক্ষা করে গোপন আঁতাতে লিপ্ত হয়েছে, তখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে রাজনীতি করেছে। তিনি বলেন, আমরা কোনো গুপ্ত রাজনীতি করি না; আমাদের সব কার্যক্রমই প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ। ইসলামের জন্য ক্ষমতা ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, বর্তমানে সংসদে পুরোনো মুক্তিযুদ্ধ বনাম রাজাকার বিতর্ক আবারও উত্থাপিত হচ্ছে, যা জাতির জন্য বিভ্রান্তিকর।

বিরোধী দলকে পরিস্কার করতে হবে, তারা শরীয়াহর পক্ষে, নাকি প্রচলিত শাসন ব্যবস্থার পক্ষে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে ইসলামী শরীয়াহর পক্ষে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত নির্বাচন ছিল সমঝোতা ও ভাগাভাগির নির্বাচন, যার ফলে বিরোধী দল তাদের ভূমিকা নির্ধারণে বিভ্রান্ত। ইসলামের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাদের দলকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, প্রাইমারি স্কুলে কওমি মাদরাসা থেকে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। দেশে নতুন করে ‘জঙ্গি নাটক’ তৈরি করা হচ্ছে, যা বন্ধ করতে হবে।

সমাবেশে প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, তারা শরীয়াহকে প্রাধান্য দিয়ে বিগত নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করেননি। তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী সংগঠনের নামে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে নারীদের নিয়ে মহড়া দেওয়া হচ্ছে, যা অনভিপ্রেত।

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সংসদে ভঙ্গ করছে। ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে মিথ্যা অঙ্গীকার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান এবং শ্রমিকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান করেন।

সহকারী মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রমিক দিবস পালন হলেও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হয় না। তিনি বলেন, ইসলামী শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব।

বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান ওয়ালিউল্লাহ বলেন, ইসলাম শ্রমিকদের যে মর্যাদা দিয়েছে, তা অন্য কোনো ব্যবস্থায় সম্ভব হয়নি। তাই ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, শ্রমিক দিবস এলেও শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না, সরকার পরিবর্তন হলেও তাদের অবস্থার উন্নতি হয় না।

কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে তাদের সংগঠন নিরলসভাবে কাজ করছে এবং সবাইকে নিয়ে ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সহকারী মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, কেন্দ্রীয় কৃষি ও শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক লোকমান হোসাইন জাফরী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল কাশেম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাসীর আহমাদ, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ আল আমিন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, হারুন-অর-রশীদ, সেক্রেটারি জেনারেল কে এম বিল্লাল হোসাইন, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম রফিকুল ইসলাম, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল শাহ মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
৮ Time View

রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে: ফয়জুল করীম

Update Time : ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই) বলেছেন, শ্রমিকরা সকল আমলেই বঞ্চিত ও নির্যাতিত। রাষ্ট্রের উচিৎ ম্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করা। তাই সকল শ্রেণির মতো শ্রমিকদেরও রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্ড প্রদান করতে হবে। সেই কার্ডের অধিনে তাদের চিকিৎসা, খাদ্য ও আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

আজ ১ লা মে শ্রমিক দিবসে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন কর্তৃক আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি ফয়জুল করীম উপর্যুক্ত মন্তব্য করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে ইসলামের স্বার্থে আমরা সমঝোতা ত্যাগ করেছিলাম। তিনি অভিযোগ করেন, অন্যরা যখন ইসলামকে উপেক্ষা করে গোপন আঁতাতে লিপ্ত হয়েছে, তখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে রাজনীতি করেছে। তিনি বলেন, আমরা কোনো গুপ্ত রাজনীতি করি না; আমাদের সব কার্যক্রমই প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ। ইসলামের জন্য ক্ষমতা ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, বর্তমানে সংসদে পুরোনো মুক্তিযুদ্ধ বনাম রাজাকার বিতর্ক আবারও উত্থাপিত হচ্ছে, যা জাতির জন্য বিভ্রান্তিকর।

বিরোধী দলকে পরিস্কার করতে হবে, তারা শরীয়াহর পক্ষে, নাকি প্রচলিত শাসন ব্যবস্থার পক্ষে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে ইসলামী শরীয়াহর পক্ষে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত নির্বাচন ছিল সমঝোতা ও ভাগাভাগির নির্বাচন, যার ফলে বিরোধী দল তাদের ভূমিকা নির্ধারণে বিভ্রান্ত। ইসলামের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাদের দলকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, প্রাইমারি স্কুলে কওমি মাদরাসা থেকে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। দেশে নতুন করে ‘জঙ্গি নাটক’ তৈরি করা হচ্ছে, যা বন্ধ করতে হবে।

সমাবেশে প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, তারা শরীয়াহকে প্রাধান্য দিয়ে বিগত নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করেননি। তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী সংগঠনের নামে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে নারীদের নিয়ে মহড়া দেওয়া হচ্ছে, যা অনভিপ্রেত।

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সংসদে ভঙ্গ করছে। ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে মিথ্যা অঙ্গীকার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান এবং শ্রমিকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান করেন।

সহকারী মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রমিক দিবস পালন হলেও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হয় না। তিনি বলেন, ইসলামী শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব।

বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান ওয়ালিউল্লাহ বলেন, ইসলাম শ্রমিকদের যে মর্যাদা দিয়েছে, তা অন্য কোনো ব্যবস্থায় সম্ভব হয়নি। তাই ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, শ্রমিক দিবস এলেও শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না, সরকার পরিবর্তন হলেও তাদের অবস্থার উন্নতি হয় না।

কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে তাদের সংগঠন নিরলসভাবে কাজ করছে এবং সবাইকে নিয়ে ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সহকারী মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, কেন্দ্রীয় কৃষি ও শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক লোকমান হোসাইন জাফরী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল কাশেম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাসীর আহমাদ, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ আল আমিন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, হারুন-অর-রশীদ, সেক্রেটারি জেনারেল কে এম বিল্লাল হোসাইন, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম রফিকুল ইসলাম, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল শাহ মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।