বেতনের দাবিতে মহাসড়কে প্লাইউড শ্রমিকরা, জনতার প্রতিরোধে ভেস্তে গেল অবরোধ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১২ এএম
নীলফামারীর সৈয়দপুরে আহমেদ প্লাইউড কারখানায় বেতনের দাবীতে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে এলাকাবাসী ও আটকে পড়া যানবাহনের চালক-হেলপারদের সম্মিলিত প্রতিবাদের মুখে অবরোধ তুলে নিতে বাধ্য হন শ্রমিকরা। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, সৈয়দপুর-রংপুর মহাসড়কের কয়া গোলাহাট এলাকায় অবস্থিত আহমেদ প্লাইউড কারখানায় গত ৩ নভেম্বর ভ্যাট ও করসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করতে যায় বাংলাদেশ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের একটি দল। যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করে নিয়ে যান কর্মকর্তারা। এ সময় সরকারি দায়িত্ব পালনে থাকা কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়েছে।
৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে কারখানা কর্তৃপক্ষের সংবাদ সম্মেলনের পর শ্রমিকদের মধ্যে বেতন নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। জব্দ করা কাগজপত্র ও ল্যাপটপ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের বেতন দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ কারণে বেতন নিশ্চিত করতে উদ্দেশ্যে আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা। একপর্যায়ে কারখানা থেকে বেরিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন।
এতে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ, পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু শ্রমিকরা অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে অনড় থাকলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দা ও আটকে পড়া যানবাহনের শ্রমিকরা। তারা সড়ক অবরোধের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বেতন নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে কারখানার ভেতরে আন্দোলন করা যেতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে মহাসড়ক বন্ধ রাখার অধিকার কারও নেই।
স্থানীয়রা জানান, কারখানার বিভিন্ন অনিয়মের তদন্তের অংশ হিসেবেই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ল্যাপটপ জব্দ করেছেন। এ নিয়ে মালিকপক্ষের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের বেতন বন্ধের বিষয়টি তুলে ধরে সড়কে নামানোর ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও আটকে পড়া যানবাহনের চালক-হেলপাররা সম্মিলিতভাবে অবরোধের প্রতিবাদ জানান এবং যানবাহন চলাচল শুরু করার উদ্যোগ নেন। এতে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যেতে বাধ্য হন।
প্লাউড কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত এবং শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত দুর্ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি রাতের আঁধারে কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকে পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকির অভিযোগও করেন তারা।
অন্যদিকে আহমেদ প্লাইউড কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা শ্রমিকদের সড়কে নামাইনি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের প্রতিষ্ঠানের ওপর অন্যায় করেছে। এ ঘটনার কারণে আমরা শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছি না।













