৬৫ বছরের অসহায় নাজমার দায়িত্ব নিল ঢাকা জেলা প্রশাসন, পাশে দাঁড়ালেন ডিসি ফরিদা

তানভীর খান,নিজস্ব প্রতিনিধি :
তানভীর খান,নিজস্ব প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৫০ পিএম
৬৫ বছরের অসহায় নাজমার দায়িত্ব নিল ঢাকা জেলা প্রশাসন, পাশে দাঁড়ালেন ডিসি ফরিদা

বাবা-মা নেই, নেই ভাইও। নিজের সংসারও গড়া হয়নি কোনোদিন। ছোটবেলা থেকেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। জীবনের ৬৫টি বছর কেটেছে অন্যের ওপর নির্ভর করে। এখন শরীরে বাসা বেঁধেছে হৃদ্‌রোগ ও কিডনির জটিলতা। নিয়মিত ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই। শেষ আশ্রয় স্বল্প আয়ের ছোট বোন আছমা আক্তার। এমনই অসহায় জীবনের গল্প নাজমা আক্তারের।

তবে এবার তাঁর জীবনে আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। অসহায় এই নারীর চিকিৎসা, ওষুধ ও জীবনযাপনের দায়িত্ব নিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। তাঁর উদ্যোগে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন নাজমা। শুধু এককালীন সহযোগিতা নয়, প্রতি মাসেই এই সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নাজমা আক্তারের হাতে দ্বিতীয়বারের মতো ১০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

জানা যায়, বিক্রমপুরের মজিদপুর গ্রামের নাজমা বর্তমানে ছোট বোন আছমার সঙ্গে রাজধানীর মগবাজারে থাকেন। বাবা-মা ও ভাই হারানোর পর বোনই তাঁর একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু সীমিত আয়ের সংসারে নিজের খরচ সামলে বোনের চিকিৎসা চালানো ছিল প্রায় অসম্ভব। প্রতি মাসে শুধু ওষুধ কিনতেই প্রয়োজন হতো তিন থেকে চার হাজার টাকা। এর বাইরে পুষ্টিকর খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো ছিল আরও কঠিন।

বিজ্ঞাপন

নাজমার ছোট বোন আছমা আক্তার বলেন, বোনকে দেখাশোনা করার মতো আর কেউ নেই। একটি অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সঙ্গে পরিচয়ের পর তিনি নিজেই নাজমার খোঁজখবর নেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাস থেকেই এখন নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন তাঁরা।

আছমা বলেন, এই টাকা দিয়ে বোনের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধের পাশাপাশি ফলমূল, মাছ-মাংসসহ ভালো খাবারের ব্যবস্থা করতে পারছেন। জেলা প্রশাসকের এমন মানবিক উদ্যোগে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম জানান, তিন-চার মাস আগে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে প্রতিবন্ধী শিশুদের ‘মায়ার বাঁধন’ অনুষ্ঠানে গিয়ে নাজমার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তখনই জানতে পারেন, ৬৫ বছর বয়সী এই নারী ছোটবেলা থেকেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। বাবা-মা ও ভাই কেউ বেঁচে নেই, বিয়েও হয়নি। ছোট বোনের সীমিত আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলছে তাঁর জীবন।

বিষয়টি জানার পর ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাজমার দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তাঁর চিকিৎসা, ওষুধপত্র ও জীবনযাপনের প্রয়োজন মেটাতে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, এই সহযোগিতা প্রতি মাসেই অব্যাহত থাকবে।

ফরিদা খানম বলেন, আর্থিক সক্ষমতা সীমিত হলেও সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও এমন মানুষের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

একটি পরিবারের কাছে হয়তো ১০ হাজার টাকা খুব বড় অঙ্ক নয়। কিন্তু নাজমার মতো অসহায় একজন মানুষের কাছে এই অর্থ শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বেঁচে থাকার সাহস, চিকিৎসার নিশ্চয়তা আর নতুন করে স্বপ্ন দেখার অবলম্বন। প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগ মনে করিয়ে দেয়—রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু নিয়ম রক্ষা নয়, মানুষের বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোও।