আওয়ামী লীগের দোসর ও হত্যা মামলার আসামিদের ইউপি নির্বাচনের তোড়জোড়: বিরুলিয়ায় তৃণমূল বিএনপিতে তীব্র ক্ষোভ

সাভার প্রতিনিধি(ঢাকা):
সাভার প্রতিনিধি(ঢাকা):
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
আওয়ামী লীগের দোসর ও হত্যা মামলার আসামিদের ইউপি নির্বাচনের তোড়জোড়: বিরুলিয়ায় তৃণমূল বিএনপিতে তীব্র ক্ষোভ

সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নির্বিচারে হত্যার একাধিক মামলার আসামি ও বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী শাসনামলের সুবিধাভোগী শাহজাহান মাতবর ওরফে শাহজাহান এখন খোলস পাল্টে বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা ও একাধিক হত্যা মামলার পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছেন শাহজাহান মাতবর। অভিযোগ রয়েছে,এই শাহজাহান মাদবর নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী যুবলীগের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক,সুযোগ বুঝে তিনি নিজেকে বিএনপি ঘরানার লোক হিসেবে জাহির করছেন এবং ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রচার-প্রচারণা ও তোড়জোড় শুরু করেছেন। কেবল শাহজাহান মাতবরই নন, বিরুলিয়া ইউনিয়নের আরও একাধিক বিতর্কিত আওয়ামী দোসর ও চিহ্নিত অপরাধী আসন্ন ইউপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করেছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

​এই ঘটনার পেছনে স্থানীয় বিএনপির একটি প্রভাবশালী অংশের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ তুলছেন দলটির ত্যাগী ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, টাকার বিনিময়ে এবং নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের জন্য কিছু সুবিধাবাদী স্থানীয় নেতা এই আওয়ামী দোসরদের শেল্টার দিচ্ছেন।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিরুলিয়া ইউনিয়নের এক জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "গত ১৭টি বছর আমরা রাজপথে হামলা, মামলা, জেল-জুলুম ও চরম নির্যাতন সহ্য করে দলকে টিকিয়ে রেখেছি। আর আজ টাকার লোভে পড়ে দলের ভেতরের কিছু লোক ৫ আগস্টের শহীদের রক্ত ও ত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। এই শাহজাহান মাতবররা দলে ভিড়ে আমাদের ত্যাগের মূল্যায়ন নষ্ট করছে এবং বিএনপিকে জনবিচ্ছিন্ন করার পাঁয়তারা করছে।"

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছাত্র-জনতার মধ্যেও এ নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। সচেতন বিরুলিয়াবাসী প্রশ্ন তুলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যাদের হাত ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত হয়েছে, যাদের নামে সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা রয়েছে—তারা কীভাবে প্রকাশ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়?

​এলাকাবাসীর স্পষ্ট বক্তব্য,যদি এই চিহ্নিত দোসররা কোনোভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে,তবে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে অপমান করা হবে। অবিলম্বে এই সুযোগসন্ধানী ও অপরাধীদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিহত করার জন্য তারা সাভারের বিএনপি হাইকমান্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।