উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবাধে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের এমন তণ্ডবলীলায় নদীভাঙন তীব্র হওয়ার পাশাপাশি চরম হুমকির মুখে পড়েছে জাতীয় গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও বসতবাড়ি। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপে দেখা মিলছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায়, জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারের সংলগ্ন বসতবাড়ির অতি নিকটে বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ১১টি অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে অবিরত বালু তোলা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু পরিবহনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে প্রায় ৯০ থেকে ১০০টি বাল্কহেড। অবৈধ এ কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্ন করতে স্পিডবোটে ৮-১০ জনের একটি সশস্ত্র দল নিয়মিত টহল ও পাহারা দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যমুনা নদীবেষ্টিত এলাকাটিতে কথিত সর্বহারা সন্ত্রাসী শাহ আলম বাহিনীর প্রত্যক্ষ সশস্ত্র পাহারায় ড্রেজারগুলো পরিচালনা করছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট। এভাবে অপরিকল্পিতভাবে বালু কাটার ফলে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে আলোকদিয়া চরের একাধিক বসতবাড়ি, ফসলি জমি, স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
জানা যায়, জনস্বার্থ ও পরিবেশ সুরক্ষায় শিবালয়ের উক্ত এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসককে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরেও প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন চলায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা অবিলম্বে ড্রেজারগুলো জব্দ, সশস্ত্র পাহারা চক্রসহ এর পেছনের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. কামরুল হাসান জানান, “অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে। খবর পাওয়ার পরপরই শিবালয় উপজেলা প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, স্থানীয়দের জানমালের নিরাপত্তা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামো রক্ষায় হাইকোর্টের আদেশ দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নদীপাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত ও উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা।